Saturday, 5 February 2022

আশুতোষ দেবনাথ

আশুতোষ দেবনাথ 

বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তির পেতে অনেক মেয়েরাই নিজের চেষ্টায়  সামাজিক ও পারিবারিক লক্ষণ রেখা থেকে বেরিয়ে আসছে। সে পরিসংখ্যান নামমাত্র।  বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আজও অনেকে ই এই বিয়েতে খুবই উৎসাহী। এমনকি যাদের এই বাল্য বিবাহের বিরোধিতা করার কথা তারও উৎসাহ নিয়ে এই রকম বেআইনি বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন বেশ সাজগোজ করে একটা কোনো দান সামগ্রী নিয়ে।
এতদসত্বেও দুটি নাবালিকা নিজেদের বিবাহ নিজেরাই রুখে দিয়ে প্রচারের আলোকে এসে সাহসিকতার পুরস্কার নেবার জন্য দিল্লির দরবারে স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তারা এমন সাহসিকতা দেখিয়ে নিজেদের তো ধন্য করেছে। উপরন্তু আরো অনেক কিশোরী কে অনুপ্রাণিত করছে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যাবার জন্য। তাদের মধ্যে আমি এইরকমই একটি মেয়ের কথা জানি যে একটি গরীব  রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে চেয়েছিল অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে পাশ করে কোনো হাসপাতালের সেবিকা হতে। তখন তার মা বাবা ও আত্মীয় - স্ব - জন তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে সে বাড়ির বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যায় বিয়ের সাজে। যাবার সময় সে তার বিয়ের সাজ ওই যা কিনা ওর মা বাবা সংগ্রহ করেছিল বিভিন্ন ক্লাব, হরিসভা, ধনী আত্মীয় স্ব - জ ন দের কাছ থেকে ভিক্ষা করে। এমনকি গ্রাম পঞ্চায়েতের থেকেই কিছু অর্থ সাহায্য পেয়েছিল এই বেআইনি কন্যাদান সম্প্রদান এর জন্য। মেয়েটি সেই বেনারসি শাড়ি সহ বিয়ের কন্যার যাবতীয় সাজ খুলে ফেলে শার্ট প্যান্ট পরে নিজের বইয়ের ব্যাগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না। কিছুদূর যাবার পর একটা নির্মীয়মাণ বহুতলের সামনে ইট বালি সিমেন্ট পাথর ও লোহার রড পাহারা দেবার জন্য দু ' জন নৈশ প্রহরী আর তার বন্ধুরা রঙিন পানীয় সহকারে বাবুদের পুকুরের পাকা রুই মাছ ভাজার স্বাদ পরখ করছিল। তারা প্রথম মেয়েটিকে ছেলে ভেবে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু একজনের চোখের শকুন দৃষ্টিই বিপদ ডেকে আনার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। মেয়েটি আর কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে সামনে কিছুদূর দৌড়ে গিয়ে একটি নদীতে ঝাঁপ দেয়। নদী সাঁতরে পার হবার জন্য । কিন্তু পারে না। যদিও মেয়েটি একবার তাদের পাড়ার ক্লাবের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বড়ো ঝিলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল। এখন এই রাতের অন্ধকারে সারাদিন উপোস থাকার পর শকুনের  তাড়া খেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে হাপিয়ে উঠেছিল। কিছুদূর যাবার পর মেয়েটি কে ডুবে যেতে দেখে জেলেরা দূর থেকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিজ্ঞ ডাক্তার বাবুরা মেয়েটিকে মৃত বলে ঘোষণা করে ও পুলিশকে ফোন করে জানায় ।পুলিশের তদন্তকারী পুলিশ অফিসার মেয়েটির মৃত দেহ সনাক্ত করতে গিয়ে তার পিঠের ব্যাগ খুলে তার থেকে কিছু  কাগজ বের করে এনে  হতবাক হয়ে যান। ব্যাগের কাগজ পত্রের মধ্যে রাখা ছিল বিদ্যাসাগরের ছবি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণজীর ছবি আর যে মেয়েদুটি নিজেদের বিয়ে রুখে মিডিয়ার সৌজন্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে  রাষ্ট্রপতির নিকট হতে পুরস্কার নিয়েছিল সেই ছবি। যে দৃশ্য  অত্যাধুনিক মিডিয়ার দৌলতে আসমুদ্র ভারতবর্ষের মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সেই দৃশ্যের  সংবাদপত্রের পেপার কাটিং  যা সে অনেকদিন থেকে যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিল। সে সবই এখনো সুরক্ষিত আছে।
              .............................
   আশুতোষ দেবনাথ
     শহীদ বন্ধু নগর
কলকাতা - 700131
,মোবাইল 8902701389

শৈলী-- অদিতি ঘটক

শৈলী
অদিতি ঘটক

বসে থাকতে ভালো লাগছে। এক পাশে বট আরেক পাশে অশ্বথ।
  অশ্বথরকচি কচি সবুজ পাতা বিরাট গাছটার গায়ে ছোট পুঁচকে বাচ্ছার নতুন নতুন আঁকা শেখার মত মনে হচ্ছে।
  চৈত্রের প্রথম দিক। গরম তেমন একটা নেই। অহনা অলস ভাবে লঞ্চ,  স্টিমারের চলাচল, জেলেদের মাছ ধরা দেখে চলেছে। স্ট্যান্ডের বেঞ্চে বসে মানুষের আনাগোনার মাঝে ছিটকে ছিটকে আসা কথা শুনছে। কান করে যে শুনছে বা মনে রাখছে এর কোনোটাই নয়। হাওয়ায় যেমন আসছে তেমনি মিলিয়ে যাচ্ছে। নানা বয়সের, নানা ধরনের নারী ,পুরুষের নানা অভিব্যক্তি।
  আজ অহনা একটা বেঞ্চে একাই বসে আছে। এক মনে সামনের ডিঙি নৌকায় বাবা আর তার বালক ছেলের মাছ ধরা দেখে যাচ্ছে। সঠিক ভাবে বলতে গেলে তাদের অধ্যবসায় দেখে যাচ্ছে। প্রায় এক ঘন্টা হতে চলল একটা মাছও ওঠেনি। চালাক মাছেরা বার বার চার খেয়ে চলে যাচ্ছে। দুজনেই কি নিষ্ঠা ও ধৈর্য্যের সঙ্গে আবার চার গাঁথছে---
 "কি ধৈর্য্য বলুন। দরদাম করার সময় কিন্তু এই একাগ্রতার কথা মনে রাখিনা।"
 অহনা চমকে ওঠে। ও নিজের খেয়ালে এত মগ্ন ছিল এই বুড়োটে, ক্ষয়া, উলোঝুলো লোকটা কখন এসে বসেছে জানতেও পারেনি। তাহলে অহনা আগেই উঠে যেত। 
আসলে অহনা অনেক কিছুই জনতে পারেনা। যেমন প্রলয়ের মুখে না বলা অবধি তাকে ভালোবাসার কথা। বিয়ের পর প্রলয় বলেছিল "এই বুদ্ধি নিয়ে চাকরি করো কি করে ? বাবাহ ! এত মোটা, মোটা হিন্ট এও বুঝতে পারলে না। গোছা গোছা ফুল, গিফট, আমার শরীরী ভাষা সব ব্যর্থ ! ম্যাডামকে মুখে না বললে উনি কিছু বুঝতে উঠতে পারেন না।"
 অহনা বোকা চাহনি ,বোকা হাসি নিয়ে প্রলয়ের বুকে মুখ গুঁজে ছিল।
 প্রলয় নিবিড় ভাবে জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়ে বলেছিল এই সোজা সরল মেয়েটিকেই তো আমি ভালোবেসেছি। সারা জীবন এমন বোকা হয়েই থেকো।
  এত বড় ভরসা দেওয়ার মানুষ সেই প্রলয়ই এখন পারমিতার প্রেমে পাগল। বুবলাই এর কথাও ভাবে না। অহনা সত্যি কি বোকা ! পারমিতার ঘন ঘন বাড়িতে আসা, প্রলয়ের ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে এনগেজ থাকা, অফিসের কাজ বলে দুজনেরই একসাথে বেপাত্তা থাকা। বেয়ারা সুজয়দা যদি চোখে আঙুল দিয়ে না দেখাতো তাহলে অহনা এত সবের পরেও অজ্ঞই থেকে যেত।

লোকটা বলছে," জানেন জীবনটাও ঠিক এরকমই, বোকাদের এখানে কোনও জায়গা নেই। তারা হেরো হয়ে  পিছন থেকে আরও পিছনে যেতে যেতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
 চার, আর অধ্যবসায় থাকলে ছিপে মাছ গাঁথবেই।"
অহনা দেখল সত্যিই বাবা আর ছেলে দুজনের ছিপেই টপাটপ মাছ উঠছে।
লোকটা বলছে দেখলেন, "একেই বলে কেরামতি আগে চার ছড়িয়ে প্রলুব্ধ করে তারপর বড়শিতে গেঁথে নেওয়া।
 জীবনে চোখ কান খোলা রাখা আর  শৈলী রপ্ত করা জরুরি। না হলে.... চলিহিঃ---"
  
অহনা এবার আর ছিপটা গুটিয়ে রাখবে না। চার সাজিয়ে সে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করবে। বুবলাই এর জন্য ওর নিজের জন্য ওকে বেঁচে থাকার শৈলী রপ্ত করতেই হবে।

যমের দক্ষিণ দুয়ারে শিব আর আমি-- প্রদীপ দে

" যমের দক্ষিণ দুয়ারে শিব আর আমি  "
                      প্রদীপ দে ~

সক্কাল সক্কাল বউয়ের সঙ্গে ঝামেলা হয়ে গেল। আরে রিটেয়ার করে বসে আছি।  সরকারী পেনশন ও পাই না। কিছু সুদের আয়ে কষ্ট করে দিন চালচ্ছি,  কিন্তু হালার বউ কিছুতেই তা মানবে না?
আজ ঘুম থেকে উঠেই হাতে থলে ধরিয়ে দিয়েছে ,
--  ভালো মাছ, না হলে নিদেনপক্ষে  মাংস নিয়ে আসো!

আমি কত বোঝালাম। আর কত বোঝাবো?
বিবি না শোনে কোন ব্যথার কথা!

রাগ করে থলে হাতে বেড়িয়ে পড়েছি বাড়ি থেকে।
--  ধুৎ! নিকুচি করেছে তোর সংসারে …
ভেবেছিলাম আর বাড়িমুখো হবো না।
থলে হাতে আজ ই হোক আমার এই শেষযাত্রা!
যমের দক্ষিণ দুয়ারে চললেম …

ভীষণ কাহিল। কি করা যায়? ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার জন্য ধানজমি পেরিয়ে ফাঁকা মাঠে এক‌টি বটবৃক্ষের নীচে লুঙ্গি পরে বসে পড়লাম। আহাঃ কি আরাম! গ্রীষ্মকালীন  ফুরফুরে হাওয়ায় ভাসছি যেন! এবার চিন্তা করে দেখি, কোন চুলোয় যাবো?
চোখ বুজে এল…

ডুগ… ডুগ… ডুগ…
ডুগডুগি বেজে উঠলো, সঙ্গে নূপুরের ঝনঝনানি আওয়াজে ঝিমুনি উধাও …
চমকে চোখ খুলে দেখি … 
একি…
এ যে স্বয়ং বাবা মহাদেব …
শিব বাবা!
উদোম গাঁট্টাগোট্টা ছাইরঙা গা, মাথায় বিরাট এক জটা, বটগাছের ঝুরি কাঁধ ছাড়িয়ে ঝুলছে, পরনে ছোট্ট বাঘছাল, পায়ে বড় বড় ঘুঙুর বেঁধে আর হাতের ডুগডুগি বাজিয়ে রুক্ষ মাটিতে বেধড়ক এক নাচ জুড়েছেন!

আমিতো থ! আরে ঝামেলার পর একেবারে শিবের দেখা? বুঝলাম আর কেউ না বুঝুক শিব বাবা আমার দুঃখ বুঝেছেন। এবার আমি উদ্বার হয়ে যাবো নিশ্চিত - কারণ সূর্য পুত্র যমই শিবের এজেন্ট এবার আমায় ভালোবেসে শিবলোকে নিয়ে নেবে নিশ্চয়ই  …

--  প্রনাম মহাদেব! আপনার অশেষ কৃপা। আপনি আমার দুঃখে সাড়া দিয়েছেন। এবার আমায় উদ্ধার করুন … আর কোনো কালে আমি বিবাহ করবো না - কথা দিচ্ছি … এই নাক কান মুলে ক্ষমা মানছি …
আমার চোখ বেয়ে জল নেমে এল, -কথা গেল থেমে।

ভাবলাম শিব খুব খুশি হবে। ওমাঃ এ কি দেখছি?
দেখি শিব নাচাগানা থামিয়ে হু হু করে কাঁদছে …

--  ঠাকুর সাব, আপনি কাঁদেন কেন? আমার জন্যি?

--  না রে পাগল বৎস,  না রে না! তোর দুঃখ দেখে কাঁদিনি - তোর দুঃখ দেখে আমার দুঃখের কথা মনে এল যে! দুঃখ ভুলতে নাচি গাই - তোকে দেখে মুখপোড়া আমার আবার সেই কষ্টের কথাই মনে পড়ে গেল …

--  সে কি?  আপনি হলেন গিয়ে এই দুনিয়ার মালিক মহাদেব?  আপনার আবার কিসের দুঃখ?

--  চুপ কর বেয়াদপ! মালিক! মালিক আবার কি রে? ঘরে বউ থাকলে এ কথা বলা যায়? সব বউয়েরাই এক, এটা বুঝিস না?

--  ওমাঃ সে কি কথা গো ঠাকুর। তোমার গিন্নি যে জগৎজননী মা দুর্গা? সে তো বিরাট ব্যাপার, বিরাট ভাগ্য তোমার?

--  হ্যা তাতো বাইরে দিয়ে মনে হয় রে চ্যালা! পরের বউ মানেই খুব ভাল।

--  ছিঃ ছিঃ এসব বলো না।

--  চুপ কর ব্যাটা সব মহিলারাই এক। বিয়ের একবছর পরেই এক্কেবারে রণচন্ডী! মেরে মেরে আমায় একেবারে শেষ করে দিল রে…
তাই নন্দীভৃঙ্গী নিয়ে নেচে নেচে দুঃখু ভুলি রে?

বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আমি একজন পার্টনার পেয়ে দুঃখ ভোলবার চেষ্টা করছি এমন সময় ভোলেবাবা নিজের টাল সামলাতে গিয়ে নিজের কোমরের বাঘছাল খসিয়ে দিল …

ছিঃ ছিঃ এ আমি কি দেখতাছি - তলার 'ইয়েটা' যে একেবারেই শুকিয়ে ছোট্ট হয়ে গেছে - ঠিক আমার টার মতোই। লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে গেল - ছিঃ ছিঃ এই জন্যই যে আমাদের এত দুঃখ, বউদের আর কেন মিছে দোষ দিই,  ছিঃ!

চোখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম। পুনরায় তাকিয়ে দেখি জনকোলাহল, শিব বাবা একহাতে বাঘছাল আর অন্যহাতে মাথার জটা ধরে মাঠ ধরে ছুটছে - আর তার পিছনে ছেলেবুড়ো সব্বাই তারস্বরে চিৎকার করছে, --
" বহুরূপী বহুরূপী  "  !

সময় -- অলভ্য ঘোষ

সময়
অলভ্য ঘোষ

কি দুঃসাহস মানুষের, মানুষ  সময়ের সাথে চলে।সময়ের সাথে চলতে হয় না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।কোন এক সংবাদ মাধ্যমও তাই বলে।ভগবান ছাড়া আর কাউকেও ভয় পায় না যারা আসলে তারা একটা বুর্জোয়া ভয় পোষে।সময়ের সাথে চলতে হয় না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়; এটা একটি যন্ত্র সভ্যতার কথা।আর যন্ত্র যদি মন্ত্র হয় মানুষ হয় যান্ত্রিক সে ক্রমশ ক্রমশ যত যন্ত্র হবে উৎপাদন আর উৎপাদক বৃদ্ধির উৎপাতের হারে সে মানুষ একটি পণ্য সমতুল্য যতোই হয়ে পড়বে পোল্ট্রির মুরগী ততোই তার চর্বি বাড়বে বটে গোস্তের দাম হবে আর বাড়বে ব্লাড প্রেসার সুগার কোলেস্টেরল হাইপার টেনশন, ডিপ্রেশন।মহাবিশ্বের কাছে আমরা একটি ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ছোট বেলায় শিক্ষকেরা একথা বলেন।কিন্তু যত বড় হই মনে হয় মহাবিশ্ব টা একটা ধূলিকণার সমান আমাদের কাছে।আমরা এতটাই বৃহৎ এবং মহৎ।সময় আমাদের পকেটে।কত বড় মূর্খ আমরা।ছোটবেলায় বাঁদর নাচ আমরা সবাই দেখেছি।একটা লোক একটা বাঁদরের গলায় দড়ি বেঁধে হাতে একটি লাঠি নিয়ে।বাঁদর কে বলছে তুই গড়ের মাঠে ঘুরতে যাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে।তুই বাদাম ভাজা খাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে।তুই সেজে গুজে স্নো পাউডার মেখে হেমা মালিনীকে বিয়ে করতে যাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে কেবল তাই নয় আয়নায় মুখ দেখে পাউডার মেখে বাঁদরওয়ালার লাঠিতে ভর করে পাছা বেঁকিয়ে বেঁকিয়ে বাঁদরীর সাথে বিয়ে করতে চলল বাঁদর।এরপর মালা বদল তারপর বাদর বাঁদরীর নাচ; ভাব ভালবাসা দাঁত খিচুনি সবই আছে।যত খেলা দেখাবে বাঁদর ততোই পাবে একটা করে খোসা ওয়ালা চীনা বাদাম।দর্শকের হাততালি খেলার শেষে বাটি হাতে ঘুরছে বাঁদর।আর বাটির ভিতর পড়ছে খুচরো পয়সা।ছোটবেলায় অতো গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি।বড় হয়ে বুঝেছি যে এই বাঁদরেরা ভীষণ ক্ষুধার্ত থাকে।তাই এদের দিয়ে যে কোন খেলা একটি সামান্য  খোসা ওয়ালা চীনা বাদামের বিনিময়ে দেখিয়ে নিতে পারেন বাঁদরওয়ালা।বলুনতো এখানে কে কাকে নাচাচ্ছে?জানি বলবেন এটা আবার প্রশ্ন হল নাকি।বাঁদরওয়ালা বাঁদর নাচাচ্ছে। বাঁদর কখনোই বাঁদরওয়ালাকে নাচাচ্ছে না।সে স্থির তার দড়ি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।বাঁদরের গলায় বাঁধা।বলুনতো এখানে সময় কে?আর আপনিই বা কোনটা?ঠিক ধরেছেন সময় ঘড়ির কাঁটা বা বাঁদরটি নয়।সময় বাঁদরওয়ালা।সময় নাচে না সময় নাচায়।একটা গোটা খোসাওয়ালা চীনেবাদামের জন্য বাঁদর যেমন নাচে আমরাও নাচি পেটের জন্য।তবে মানুষ কেবল পেটের জন্য নাচে না বাঁচে না অন্যান্য প্রাণীকুলের মত।মানুষের খিদে বহু প্রকারের তবে তাদের মোটামুটি দুটি শিরোনামে ধরা যেতে পারে জৈবিক বা বস্তুবাদী ও আধ্যাত্মিক বা ভাববাদী।জৈবিক খিদে তাকে ভোগবাদী করে তোলে যদি সেখানে লাগাম বা আধ্যাত্মিক খিদে না থাকে।আবার জৈবিক খিদে না মিটলে আধ্যাত্মিক খিদে তৈরিই হয়না অর্থাৎ দুটি পরস্পরের নিয়ন্ত্রক একটা ছেড়ে আরেকটা কে অবলম্বন করা সম্ভব নয়।তবে সোনার পালঙ্ক আমাদের ঘুম দেয় না ঘুম দেয় সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি! সে ঘুম মাদুরে শুয়েও যদি মিলতে পারে সোনার পালঙ্কের পিছনে ছুটে আমার সময়, শরীর,মন এবং আত্মা কে ক্ষয় করা কেন-বাপু! দিনান্তে আমারো সাড়ে তিন হাত জমির দরকার তোমারো তাই।ভূতে ভর করে ভবিষ্যতের জন্য তবে কেন এত খাই খাই।কেন তবে এত আয়োজন।সময়কে তুমি নাচাও না।সময় তোমাকে নাচায়।এই কদিন আগে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন হয়ে গিয়েছিলে ভুলে গেলে।রোজ একটা করে ঝড় আসছে আর তুমি ঝড়ো কাকের মত ছুটে বেড়াচ্ছ।এটাই সময় ভায়া।ঘড়ির কাঁটা আর তুমি ছুটে মরছ রোজ বদলাচ্ছ ঠংঠং পেন্ডুলাম থেকে ডিজিটাল।সূচক বদলালে সময়  কি বদলাচ্ছে ভায়া।একই সময়ে একটি শিশু খেলা করছে মায়ের কোলে;যুবক প্রেমিকার আঁচলে আর বৃদ্ধ রয়েছেন চিতার দিকে ঢলে।এগুলো তাদের ব্যক্তিগত অঞ্চল; সময় কে তুমি লোকাল ট্রেন কেনও; গ্যালপিং দূরপাল্লার ট্রেন ভাবলেও ভুলহবে।অনন্তকাল ধরে চলে আসা সময়ের কোন স্টপেজ নেই।তার কোন অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ নেই।যেহেতু আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে তাই সময়কে আমরা আমাদের সীমানার ভেতর ধরতে চাই।সময়ের কাছে আমরা অসহায় বাঁদরের মতো।স্বাধীনতা নেই।বাইবেলে একটি কথা আছে;"তুমি কাল্যর কথা ভাবিও না।কাল্য আপনার কথা আপনি ভাবিবে।"
Life is a feeling;an emotion.আর কিছুই না।সময়ের পিছনে ছুটে জীবনকে অনুভব করার সময়  না পেলে জীবন বেকার।



*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২

Friday, 4 February 2022

প্রতারক --সাবিত্রী দাস

প্রতারক
সাবিত্রী দাস 

      অরূপের কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ হচ্ছে।এই অস্বস্তি টা খুব বেশি বলতে গেলে আট দশ দিনের হবে।ঘরে তো মাত্র  দুটি প্রাণী সে আর তনু মানে অরূপের স্ত্রী তনিমা। 
   অরূপ কাজ করে করপোরেশনে । সাফাই বিভাগের সিনিয়র ক্যাশিয়ার সে। সাফাই কর্মীদের পেমেন্টের হিসাব রাখা এবং তাদের ব্যাংকের খাতায়  পেমেন্ট পাঠানোই হলো অরূপের কাজ।
  তনুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে চার বছর।বাড়ীর লোকের দেখাশোনাতেই বিয়ে।সাদামাটা মেয়ে তনু।ভারী সরল আর হাসি খুশী। চার বছর বিয়ে হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের কোন সন্তানাদি নেই। যদিও বহু ডাক্তার কবিরাজ দেখানো হয়েছে।লাভের লাভ কিছুই হয় নি।ডাক্তারের মত  দুজনের কারো কোন সেরকম দোষ বলে কিছু পাওয়া যায়নি। হাসি খুশী ভাব টি তনুর এখন আর তেমন দেখতে পাওয়া যায় না বিশেষ।এহেন তনুকে নিয়ে অরূপের কোন সমস্যা হওয়ার কথাও নয়।শুধু সবসময় অরূপের মনে হয় তনুর সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ না ওকে ঠকিয়ে দেয়।যে কদিন তনুকে যেন একটু অন্যমনস্ক দেখছে অরূপ।মনে হচ্ছে কিছু যেন একটা লুকোচ্ছে ও।
এখনও সন্তানের জন্য  ঠাকুর দেবতা কবচ তাবিজ করে চলছে তনু।বাধা দেয় না অরূপ,মনে যাতে শান্তি পায় তাই করুক!
তনুর কি একটা ব্রত চলছে।দুজনে দুঘরে আজ সাতদিন হলো।দুজনের ঘর দুটো একেবারে মুখোমুখি ।দরজা বন্ধ করতে গিয়ে অরূপ দেখে তনুর ঘরের জানালা খোলা।ঘরে আলো জ্বলছে।মানে তনু এখনো জেগে!ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে পৌনে বারোটা।তনু তো এগারোটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে!কিছু একটা খেলো যেন।কোন ওষুধ হবে আরকি।
দরজা বন্ধ করে অরূপ শুয়ে পড়ে  বিছানায়। 
   আজ তিনদিনের দিন তার ওষুধ খাবার কথা।ভৈরব বাবার মন্দিরের পাশে এক সাধুবাবা এসেছেন দিন  পনেরো আগে।লোকমুখে খবর পেয়ে সেখানে তনুও গেছিলো যদি কোন সুরাহা হয়। খুব ভালো মানুষ সাধুবাবা।তাকে আশ্বাস দিয়েছেন,সন্তান হবেই।শুধু তনু যেন কারোকে কিছু না বলে!পাঁচকান হলে ওষুধে ফল ফলবে না  একথা বারবার করে বলে দিয়েছেন তিনি।অরূপকেও কিছু জানানো পর্যন্ত বারণ। আজ পর্যন্ত অরূপকে কোন কিছু লুকোয় নি তনু। প্রথমে মনটা বড়ো খচখচ করলেও ভাবে ভালো কাজের জন্য যখন তখন তার দোষ কী!  ওষুধ খাবার পর ঘড়ি দেখছে তনু ,বাবা বলেছেন বারোটার দশ মিনিট আগে  ওষুধটা খেতে।আর ঠিক বারোটায় ঘর থেকে একা একাই বেরিয়ে  পৌঁছতে হবে মন্দিরে।হ্যাঁ ওষুধে কাজ হচ্ছে মনে হচ্ছে যে।হঠাৎ শরীরে একটা পরিবর্তন অনুভব করে সে।কেমন একটা অস্থির ভাব!ঘর খুলে বেরিয়ে পড়ে তনু।চারদিক ভালো করে দেখে বাইরের দরজা খুলে পথে নামে।বড়ো অস্থির  সে এ কদিন যাতায়াতের পর আজ সে পাবে  বাবা ভৈরবের কৃপা। 
......
   আজ কিছুতেই ঘুম আসছে না অরূপের।তনুকে ছেড়ে থাকতে ভালো লাগে না।
ভাবতে ভাবতে চোখটা একটু লেগে গিয়েছিল।একটা শব্দ হলো মনে হলো না!
ভালো করে কান খাড়া করে শোনে হ্যাঁ ঐতো দরজা খোলার শব্দ না!তাড়াতাড়ি জানালা দিয়ে দেখতে পায় তনু দরজা খুলে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ কী! তনু একা! রাত বারোটায় তনু একা কোথায় যাচ্ছে।ভারি আশ্চর্য লাগলো।এতোদিন ধরে তনুকে দেখছে.......
আজ কি হলো কি তনুর! 
দরজা খুলে বেরিয়ে আসে অরূপ।কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে তনুকে অনুসরণ করতে থাকে সে।
দূর থেকে দেখে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে যেন চলে যাচ্ছে তনু।তার তনু এভাবে...
বুকের ভেতর একটা মোচড় পড়লো অরূপের।ততক্ষণে তনু ভৈরব মন্দিরে পৌঁছে গেছে।দরজা খোলাই ছিল।সাধু বাবার মুখে মৃদু হাসি,যাক এসেছে তাহলে।আহারে বাচ্ছা চাইছে।তা বাচ্ছা তাকে দেবে বৈকি! নিশ্চয়ই দেবে।তার আগে যা করার করে নিতে হবে।ক্যামেরা রেডি করাই আছে।বোকা মেয়ে ! সাধু বলে নিজের মনেই ।
তাড়াতাড়ি দুহাতে জাপটে ধরে তনুকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।ওষুধের ক্রিয়া ততক্ষণে তনুর শরীর কে অস্থির করে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
  হাঁপাচ্ছে অরূপ দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে কি বোকামিটাই না করেছে সে।স্পষ্ট দেখতে পেল তনু মন্দিরের পাশের ঘরটায় ঢুকলে কেউ যেন দরজা বন্ধ করে দিল।পাগলের মতো দৌড়ে এসে দেখে দরজা বন্ধ।ঘরের পিছন দিকে একটা দরজা আছে না!ছোট বেলায় কতবার লুকোচুরি খেলতে চলে আসতো এখানে। সেই দরজাটা খোলাই থাকতো সবসময়ই।
 পৌঁছে গেছে সেই খোলা দরজা দিয়ে ঠিক সময়েই। দেখে বদমাশ সাধু তনুর দিকে  তাক করে  ক্যামেরা অন করে দিয়েছে। তনু মাটিতে পড়ে আছে আচ্ছন্ন হয়ে।কোনো হুঁশ নেই তার!বদমাশ টা তনুর শাড়ি ধরে খুলতে শুরু করেছে কি না, শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে সজোরে আঘাত করেছে অরূপ, সাধুর মাথায়।কয়লা ভাঙা হাতুড়িটা দিয়ে। এক ঘায়েই সাধু অজ্ঞান।তড়িঘড়ি তনুকে উঠিয়ে নেয় অরূপ দৌড় দেয় ঘরের দিকে।তনুকে ঘরে রেখে পুলিশে খবর দিতে হবে।সাধুর জ্ঞান ফিরে আসার আগেই আসতে হবে পুলিশ নিয়ে।

সুদখোর ভূত -- ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

সুদখোর ভূত
ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

গল্পটা বিধুদা বলেছিল। এমনিতে অলৌকিক কাহিনী তে আমার বিশ্বাস হয় না। তবে বিধুশেখর মুখুজ্যে বললে অবিশ্বাসটা করি কী করে। তবে সত্যি একটা কথা বলছি। ভূত না থাকলেও ভয়টা আছেই। তাই রাতের বেলা মনে পড়লে গা ছমছম করে।
বিধুদার বাড়ি ছিল মেলকি তে। অজ পাড়া গাঁ। ওখানেই এক সুদখোর লোক বাস করতো। টাকার কুমীর যাকে বলে তাই ছিল লোকটা। থুরি!নামটা বলা হয় নি। ওর নাম ছিল অনন্ত। মক্ষীচুষ লোক মাইরি।

চারিদিকে অনন্ত সুদে টাকা খাটাতো। বিধুদা নিজেও মায়ের অসুখের সময় ধার নিয়েছিল। আসল না দাও ক্ষতি নেই। মাসের শেষে সুদ দিয়ে দাও। অনন্ত খুশি।
কিন্তু ঘটনাটা ওখানেই শেষ নয়। একদিন টাকার তাগাদা করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়লো অনন্ত। রেললাইনের উপরে ওর দেহটা অনেকেই দেখলো। একটা পা কাটা ।

অনন্তের মৃত্যুর খবরে অনেকেই আনন্দ পেল। যাকগে। আর সুদ গুনতে হবে না। বিধুদারও হয়ত স্বস্তি হয়েছিল। তবে মুখে সবাই বলতে লাগল "আহা! মানুষ টা মরে গেল"।
তেরাত্রি পার হল না। কেষ্টর বৌ পুকুর ঘাটে যাচ্ছিল। হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো। একটা সাদা কাপড় পরা খোঁড়া মানুষ একটা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আর নাকি সুরে বলছে "ওঁই কেঁষ্টার বৌঁ। টঁকাঁ দেঁ।"
ওরে বাবা রে বলে কেষ্টর বৌ দাঁত ছরকুটে পরে র ইল।
গ্রামের সব লোক জেনে গেল অনন্ত ভূত হয়ে টাকা চাইছে। উফফ!মরেও টাকা টাকা করছে। আবার কেউ কেউ বললে ও অনন্ত হয় নাকি!চিটিংবাজি করে কেউ অনন্ত সেজে টাকা উপায়ের ফিকির খুঁজছে। কথায় আছে"রূপায়া ইতনা চিজ/খোদা কা উনিশ বিশ"।

মেলকির বিনোদিনীকে চেনে না এমন মানুষ নেই। বেশ চটক আছে সাজগোজের। তার উপরে ঠমক ঠমক চলন।পায়ে নুপূর পরে। অনন্ত ওকে খুব ভালোবাসতো। ভোরের দিকে ঘুমটা ওর আসবো আসবো করছে তখন ই শুনতে পেলো" ওঁবিঁনু। দঁরজাঁটা খোঁল নাঁ।" তবে ওর কাছে টাকা চাইতে যায় নি।বিনোদ তো পাড়া তোলপাড় করে চেঁচাতে লাগল।
মাকে ভালো করতে গিয়ে দেনাটা করেছিল বিধুদা। এখন তো সুদে আসলে আশি হাজার হয়ে গেছে।এখন যদি অনন্ত ওর কাছে আসে টাকা চাইতে। কী হবে তাহলে!এইসব চিন্তা শান্তি দেয় না।

শ্রাবণ মাসের দিন ।ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। জানালার একটা পাল্লা ভাঙা। বারবার খুলে যাচ্ছে। দূরদূর।ভাল্লাগে না।বন্ধ করতে দ্বিতীয় বার উঠে দেখে অনন্ত। উরিব্বাস!
অনন্ত বললে কীঁ রেঁ বিঁধু। টঁকাঁ দে। আমতা আমতা করে বিধু বললে অ্যাই!তুই তো মরে গেছিস। কী হবে টাকা নিয়ে?
অনন্ত রেগে কাঁই। বললে ঘঁড় মঁটকাবো তঁর।তখন বিধু বললে দেখ ভাই। রাগ করিস নি। তোর ভূত হয়ে অনেক খেমতা।যদি একটা কথা রাখিস তো একটা বুদ্ধি দিই।অনন্ত হাসলে।বললে বঁল।শঁনি।

বিধু বললে জানিস তো সামনে ভোট।তুই শুধু কটা ভোট ভূত হয়ে গিয়ে এই চিহ্নে টিপে দিবি।পার্টি জিতলেএত্ততো টাকা।ওহহহ।
বললে বিশ্বাস করবে কিনা জানি না। সে বারে বিধুদার দল জিতেছিল।
এখন এটাই বিশ্বাস জন্মেছে যে টাকার টানে ভূত আসবেই আসবে।

শেষ ট্রেকিং --তমা কর্মকার

শেষ ট্রেকিং
তমা কর্মকার

শিশির এই শিশির বলোনা কবে আসবে বাড়িতে? শিশির কে বলা এই শেষ কথাটাই চোখের কোণে জল ও বুকে উৎকণ্ঠার ঝড় তুলে সেই ঝড়ে তৃণের মতো উড়তে উড়তে ভাবতে লাগলো ধীরা|শিশিরের সাথে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম ধীরার সেই কলেজ লাইফ থেকে,সমীর বাবু মানে শিশিরের বাবা এবার চেয়েছিলেন শিশিরের ট্রেকিংয়ে যাবার আগে ধীরা কে শিশিরের সাথে বিয়ে দিয়ে পাকাপাকি ভাবে ঘরে নিয়ে আসতে, কিন্তু ধীরার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার জন্য সেটা পিছিয়ে গেলো| ঠিক হলো শিশির এবার ট্রেকিং থেকে ফিরে আসার সাথে সাথে ধীরা কে পুত্রবধূ রূপে ঘরে নিয়ে আসবে, শিশির একটা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার কিন্তু পাহাড়ে ট্রেকিং করা ওর ছেলে বেলা থেকেই শখ আর এখন তো ট্রেকিংটা  ওর মজ্জায় মিশে গেছে,  শিশির ধীরাকে জানিয়েছে এটাই তার শেষ ট্রেকিং আর সে ট্রেকিংএ যাবেনা এরপর সে ধীরাকে নিয়ে হানিমুনে যাবে, ধীরা প্রতিবারের মতো এবারো এসেছিলো শিশির কে ট্রেনে তুলে দিতে, আজ শিশিরকে তিস্তা তোর্সা ট্রেনে তুলে দিয়ে ও শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়েছিলো, যতক্ষণ ট্রেনটা দেখা যায় ততক্ষন,তারপর ট্রেনটা আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো,ধীরা ধীর পায়ে ফিরে এলো নিজের বাড়ী , পরেরদিন সকালে ধীরা একাপ চা নিয়ে বসলো খবরের কাগজ নিয়ে এটা ওর প্রতি দিনের অভ্যেস রোজ  সকালে ও চা খেতে খেতে খবরের কাগজটাতেও চোখ বুলিয়ে নেয় কেনোনা সারাদিন  
নিজের জন্য ধীরা একটু সময় পায়না প্রত্যেক দিন সকালের সমস্ত কাজ মিটিয়ে বাবাকে খাইয়ে দায়িয়ে সে চলে যায় অফিসে তাই আজ সকালেও ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো এক কাপ চা হাতে  নিয়ে টেবিলে বসেছে পেপারটা খুলেই প্রথম পাতায় চোখ বুলাতে গিয়েই  ধীরার মাথা ঘুরে যায়, একি দেখছে সে তার চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায়, সে  দেখে খবরের কাগজের প্রথম পাতায় তিস্তা তোর্সা ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে তার খবর বেরিয়েছে অ্যাক্সিডেন্টের খবর পড়তে পড়তে ধীরা অজ্ঞান হয়ে যায় কারণ তিস্তা তোর্সার যে কম্পার্টমেন্টে শিশিরকে তুলে দিয়েছিলো গত রাত্রে সেই কম্পার্টমেন্ট একদম চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে গেছে, সেই কম্পার্টমেন্টের কেউ বেঁচে নেই, শিশিরের জীবনের সাথে সাথে শেষ হয়ে গেলো তার জীবনের
শেষ ট্রেকিং |আর ধীরা,,,,,,,,,,???

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি"--বহ্নি শিখা

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি" বহ্নি শিখা  খুব মানসিক চাপের ভিতর দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম।ভালো লাগছিলো না মোটেই। আজকাল  মাঝেই মাঝে...