সময়
অলভ্য ঘোষ
কি দুঃসাহস মানুষের, মানুষ সময়ের সাথে চলে।সময়ের সাথে চলতে হয় না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।কোন এক সংবাদ মাধ্যমও তাই বলে।ভগবান ছাড়া আর কাউকেও ভয় পায় না যারা আসলে তারা একটা বুর্জোয়া ভয় পোষে।সময়ের সাথে চলতে হয় না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়; এটা একটি যন্ত্র সভ্যতার কথা।আর যন্ত্র যদি মন্ত্র হয় মানুষ হয় যান্ত্রিক সে ক্রমশ ক্রমশ যত যন্ত্র হবে উৎপাদন আর উৎপাদক বৃদ্ধির উৎপাতের হারে সে মানুষ একটি পণ্য সমতুল্য যতোই হয়ে পড়বে পোল্ট্রির মুরগী ততোই তার চর্বি বাড়বে বটে গোস্তের দাম হবে আর বাড়বে ব্লাড প্রেসার সুগার কোলেস্টেরল হাইপার টেনশন, ডিপ্রেশন।মহাবিশ্বের কাছে আমরা একটি ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ছোট বেলায় শিক্ষকেরা একথা বলেন।কিন্তু যত বড় হই মনে হয় মহাবিশ্ব টা একটা ধূলিকণার সমান আমাদের কাছে।আমরা এতটাই বৃহৎ এবং মহৎ।সময় আমাদের পকেটে।কত বড় মূর্খ আমরা।ছোটবেলায় বাঁদর নাচ আমরা সবাই দেখেছি।একটা লোক একটা বাঁদরের গলায় দড়ি বেঁধে হাতে একটি লাঠি নিয়ে।বাঁদর কে বলছে তুই গড়ের মাঠে ঘুরতে যাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে।তুই বাদাম ভাজা খাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে।তুই সেজে গুজে স্নো পাউডার মেখে হেমা মালিনীকে বিয়ে করতে যাবি?বাঁদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে কেবল তাই নয় আয়নায় মুখ দেখে পাউডার মেখে বাঁদরওয়ালার লাঠিতে ভর করে পাছা বেঁকিয়ে বেঁকিয়ে বাঁদরীর সাথে বিয়ে করতে চলল বাঁদর।এরপর মালা বদল তারপর বাদর বাঁদরীর নাচ; ভাব ভালবাসা দাঁত খিচুনি সবই আছে।যত খেলা দেখাবে বাঁদর ততোই পাবে একটা করে খোসা ওয়ালা চীনা বাদাম।দর্শকের হাততালি খেলার শেষে বাটি হাতে ঘুরছে বাঁদর।আর বাটির ভিতর পড়ছে খুচরো পয়সা।ছোটবেলায় অতো গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি।বড় হয়ে বুঝেছি যে এই বাঁদরেরা ভীষণ ক্ষুধার্ত থাকে।তাই এদের দিয়ে যে কোন খেলা একটি সামান্য খোসা ওয়ালা চীনা বাদামের বিনিময়ে দেখিয়ে নিতে পারেন বাঁদরওয়ালা।বলুনতো এখানে কে কাকে নাচাচ্ছে?জানি বলবেন এটা আবার প্রশ্ন হল নাকি।বাঁদরওয়ালা বাঁদর নাচাচ্ছে। বাঁদর কখনোই বাঁদরওয়ালাকে নাচাচ্ছে না।সে স্থির তার দড়ি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।বাঁদরের গলায় বাঁধা।বলুনতো এখানে সময় কে?আর আপনিই বা কোনটা?ঠিক ধরেছেন সময় ঘড়ির কাঁটা বা বাঁদরটি নয়।সময় বাঁদরওয়ালা।সময় নাচে না সময় নাচায়।একটা গোটা খোসাওয়ালা চীনেবাদামের জন্য বাঁদর যেমন নাচে আমরাও নাচি পেটের জন্য।তবে মানুষ কেবল পেটের জন্য নাচে না বাঁচে না অন্যান্য প্রাণীকুলের মত।মানুষের খিদে বহু প্রকারের তবে তাদের মোটামুটি দুটি শিরোনামে ধরা যেতে পারে জৈবিক বা বস্তুবাদী ও আধ্যাত্মিক বা ভাববাদী।জৈবিক খিদে তাকে ভোগবাদী করে তোলে যদি সেখানে লাগাম বা আধ্যাত্মিক খিদে না থাকে।আবার জৈবিক খিদে না মিটলে আধ্যাত্মিক খিদে তৈরিই হয়না অর্থাৎ দুটি পরস্পরের নিয়ন্ত্রক একটা ছেড়ে আরেকটা কে অবলম্বন করা সম্ভব নয়।তবে সোনার পালঙ্ক আমাদের ঘুম দেয় না ঘুম দেয় সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি! সে ঘুম মাদুরে শুয়েও যদি মিলতে পারে সোনার পালঙ্কের পিছনে ছুটে আমার সময়, শরীর,মন এবং আত্মা কে ক্ষয় করা কেন-বাপু! দিনান্তে আমারো সাড়ে তিন হাত জমির দরকার তোমারো তাই।ভূতে ভর করে ভবিষ্যতের জন্য তবে কেন এত খাই খাই।কেন তবে এত আয়োজন।সময়কে তুমি নাচাও না।সময় তোমাকে নাচায়।এই কদিন আগে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন হয়ে গিয়েছিলে ভুলে গেলে।রোজ একটা করে ঝড় আসছে আর তুমি ঝড়ো কাকের মত ছুটে বেড়াচ্ছ।এটাই সময় ভায়া।ঘড়ির কাঁটা আর তুমি ছুটে মরছ রোজ বদলাচ্ছ ঠংঠং পেন্ডুলাম থেকে ডিজিটাল।সূচক বদলালে সময় কি বদলাচ্ছে ভায়া।একই সময়ে একটি শিশু খেলা করছে মায়ের কোলে;যুবক প্রেমিকার আঁচলে আর বৃদ্ধ রয়েছেন চিতার দিকে ঢলে।এগুলো তাদের ব্যক্তিগত অঞ্চল; সময় কে তুমি লোকাল ট্রেন কেনও; গ্যালপিং দূরপাল্লার ট্রেন ভাবলেও ভুলহবে।অনন্তকাল ধরে চলে আসা সময়ের কোন স্টপেজ নেই।তার কোন অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ নেই।যেহেতু আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে তাই সময়কে আমরা আমাদের সীমানার ভেতর ধরতে চাই।সময়ের কাছে আমরা অসহায় বাঁদরের মতো।স্বাধীনতা নেই।বাইবেলে একটি কথা আছে;"তুমি কাল্যর কথা ভাবিও না।কাল্য আপনার কথা আপনি ভাবিবে।"
Life is a feeling;an emotion.আর কিছুই না।সময়ের পিছনে ছুটে জীবনকে অনুভব করার সময় না পেলে জীবন বেকার।
*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
No comments:
Post a Comment