শেষ ট্রেকিং
তমা কর্মকার
শিশির এই শিশির বলোনা কবে আসবে বাড়িতে? শিশির কে বলা এই শেষ কথাটাই চোখের কোণে জল ও বুকে উৎকণ্ঠার ঝড় তুলে সেই ঝড়ে তৃণের মতো উড়তে উড়তে ভাবতে লাগলো ধীরা|শিশিরের সাথে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম ধীরার সেই কলেজ লাইফ থেকে,সমীর বাবু মানে শিশিরের বাবা এবার চেয়েছিলেন শিশিরের ট্রেকিংয়ে যাবার আগে ধীরা কে শিশিরের সাথে বিয়ে দিয়ে পাকাপাকি ভাবে ঘরে নিয়ে আসতে, কিন্তু ধীরার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার জন্য সেটা পিছিয়ে গেলো| ঠিক হলো শিশির এবার ট্রেকিং থেকে ফিরে আসার সাথে সাথে ধীরা কে পুত্রবধূ রূপে ঘরে নিয়ে আসবে, শিশির একটা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার কিন্তু পাহাড়ে ট্রেকিং করা ওর ছেলে বেলা থেকেই শখ আর এখন তো ট্রেকিংটা ওর মজ্জায় মিশে গেছে, শিশির ধীরাকে জানিয়েছে এটাই তার শেষ ট্রেকিং আর সে ট্রেকিংএ যাবেনা এরপর সে ধীরাকে নিয়ে হানিমুনে যাবে, ধীরা প্রতিবারের মতো এবারো এসেছিলো শিশির কে ট্রেনে তুলে দিতে, আজ শিশিরকে তিস্তা তোর্সা ট্রেনে তুলে দিয়ে ও শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়েছিলো, যতক্ষণ ট্রেনটা দেখা যায় ততক্ষন,তারপর ট্রেনটা আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো,ধীরা ধীর পায়ে ফিরে এলো নিজের বাড়ী , পরেরদিন সকালে ধীরা একাপ চা নিয়ে বসলো খবরের কাগজ নিয়ে এটা ওর প্রতি দিনের অভ্যেস রোজ সকালে ও চা খেতে খেতে খবরের কাগজটাতেও চোখ বুলিয়ে নেয় কেনোনা সারাদিন
নিজের জন্য ধীরা একটু সময় পায়না প্রত্যেক দিন সকালের সমস্ত কাজ মিটিয়ে বাবাকে খাইয়ে দায়িয়ে সে চলে যায় অফিসে তাই আজ সকালেও ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো এক কাপ চা হাতে নিয়ে টেবিলে বসেছে পেপারটা খুলেই প্রথম পাতায় চোখ বুলাতে গিয়েই ধীরার মাথা ঘুরে যায়, একি দেখছে সে তার চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায়, সে দেখে খবরের কাগজের প্রথম পাতায় তিস্তা তোর্সা ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে তার খবর বেরিয়েছে অ্যাক্সিডেন্টের খবর পড়তে পড়তে ধীরা অজ্ঞান হয়ে যায় কারণ তিস্তা তোর্সার যে কম্পার্টমেন্টে শিশিরকে তুলে দিয়েছিলো গত রাত্রে সেই কম্পার্টমেন্ট একদম চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে গেছে, সেই কম্পার্টমেন্টের কেউ বেঁচে নেই, শিশিরের জীবনের সাথে সাথে শেষ হয়ে গেলো তার জীবনের
শেষ ট্রেকিং |আর ধীরা,,,,,,,,,,???
No comments:
Post a Comment