সুদখোর ভূত
ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়
গল্পটা বিধুদা বলেছিল। এমনিতে অলৌকিক কাহিনী তে আমার বিশ্বাস হয় না। তবে বিধুশেখর মুখুজ্যে বললে অবিশ্বাসটা করি কী করে। তবে সত্যি একটা কথা বলছি। ভূত না থাকলেও ভয়টা আছেই। তাই রাতের বেলা মনে পড়লে গা ছমছম করে।
বিধুদার বাড়ি ছিল মেলকি তে। অজ পাড়া গাঁ। ওখানেই এক সুদখোর লোক বাস করতো। টাকার কুমীর যাকে বলে তাই ছিল লোকটা। থুরি!নামটা বলা হয় নি। ওর নাম ছিল অনন্ত। মক্ষীচুষ লোক মাইরি।
চারিদিকে অনন্ত সুদে টাকা খাটাতো। বিধুদা নিজেও মায়ের অসুখের সময় ধার নিয়েছিল। আসল না দাও ক্ষতি নেই। মাসের শেষে সুদ দিয়ে দাও। অনন্ত খুশি।
কিন্তু ঘটনাটা ওখানেই শেষ নয়। একদিন টাকার তাগাদা করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়লো অনন্ত। রেললাইনের উপরে ওর দেহটা অনেকেই দেখলো। একটা পা কাটা ।
অনন্তের মৃত্যুর খবরে অনেকেই আনন্দ পেল। যাকগে। আর সুদ গুনতে হবে না। বিধুদারও হয়ত স্বস্তি হয়েছিল। তবে মুখে সবাই বলতে লাগল "আহা! মানুষ টা মরে গেল"।
তেরাত্রি পার হল না। কেষ্টর বৌ পুকুর ঘাটে যাচ্ছিল। হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো। একটা সাদা কাপড় পরা খোঁড়া মানুষ একটা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আর নাকি সুরে বলছে "ওঁই কেঁষ্টার বৌঁ। টঁকাঁ দেঁ।"
ওরে বাবা রে বলে কেষ্টর বৌ দাঁত ছরকুটে পরে র ইল।
গ্রামের সব লোক জেনে গেল অনন্ত ভূত হয়ে টাকা চাইছে। উফফ!মরেও টাকা টাকা করছে। আবার কেউ কেউ বললে ও অনন্ত হয় নাকি!চিটিংবাজি করে কেউ অনন্ত সেজে টাকা উপায়ের ফিকির খুঁজছে। কথায় আছে"রূপায়া ইতনা চিজ/খোদা কা উনিশ বিশ"।
মেলকির বিনোদিনীকে চেনে না এমন মানুষ নেই। বেশ চটক আছে সাজগোজের। তার উপরে ঠমক ঠমক চলন।পায়ে নুপূর পরে। অনন্ত ওকে খুব ভালোবাসতো। ভোরের দিকে ঘুমটা ওর আসবো আসবো করছে তখন ই শুনতে পেলো" ওঁবিঁনু। দঁরজাঁটা খোঁল নাঁ।" তবে ওর কাছে টাকা চাইতে যায় নি।বিনোদ তো পাড়া তোলপাড় করে চেঁচাতে লাগল।
মাকে ভালো করতে গিয়ে দেনাটা করেছিল বিধুদা। এখন তো সুদে আসলে আশি হাজার হয়ে গেছে।এখন যদি অনন্ত ওর কাছে আসে টাকা চাইতে। কী হবে তাহলে!এইসব চিন্তা শান্তি দেয় না।
শ্রাবণ মাসের দিন ।ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। জানালার একটা পাল্লা ভাঙা। বারবার খুলে যাচ্ছে। দূরদূর।ভাল্লাগে না।বন্ধ করতে দ্বিতীয় বার উঠে দেখে অনন্ত। উরিব্বাস!
অনন্ত বললে কীঁ রেঁ বিঁধু। টঁকাঁ দে। আমতা আমতা করে বিধু বললে অ্যাই!তুই তো মরে গেছিস। কী হবে টাকা নিয়ে?
অনন্ত রেগে কাঁই। বললে ঘঁড় মঁটকাবো তঁর।তখন বিধু বললে দেখ ভাই। রাগ করিস নি। তোর ভূত হয়ে অনেক খেমতা।যদি একটা কথা রাখিস তো একটা বুদ্ধি দিই।অনন্ত হাসলে।বললে বঁল।শঁনি।
বিধু বললে জানিস তো সামনে ভোট।তুই শুধু কটা ভোট ভূত হয়ে গিয়ে এই চিহ্নে টিপে দিবি।পার্টি জিতলেএত্ততো টাকা।ওহহহ।
বললে বিশ্বাস করবে কিনা জানি না। সে বারে বিধুদার দল জিতেছিল।
এখন এটাই বিশ্বাস জন্মেছে যে টাকার টানে ভূত আসবেই আসবে।
No comments:
Post a Comment