Saturday, 5 February 2022

আশুতোষ দেবনাথ

আশুতোষ দেবনাথ 

বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তির পেতে অনেক মেয়েরাই নিজের চেষ্টায়  সামাজিক ও পারিবারিক লক্ষণ রেখা থেকে বেরিয়ে আসছে। সে পরিসংখ্যান নামমাত্র।  বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আজও অনেকে ই এই বিয়েতে খুবই উৎসাহী। এমনকি যাদের এই বাল্য বিবাহের বিরোধিতা করার কথা তারও উৎসাহ নিয়ে এই রকম বেআইনি বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন বেশ সাজগোজ করে একটা কোনো দান সামগ্রী নিয়ে।
এতদসত্বেও দুটি নাবালিকা নিজেদের বিবাহ নিজেরাই রুখে দিয়ে প্রচারের আলোকে এসে সাহসিকতার পুরস্কার নেবার জন্য দিল্লির দরবারে স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তারা এমন সাহসিকতা দেখিয়ে নিজেদের তো ধন্য করেছে। উপরন্তু আরো অনেক কিশোরী কে অনুপ্রাণিত করছে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যাবার জন্য। তাদের মধ্যে আমি এইরকমই একটি মেয়ের কথা জানি যে একটি গরীব  রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে চেয়েছিল অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে পাশ করে কোনো হাসপাতালের সেবিকা হতে। তখন তার মা বাবা ও আত্মীয় - স্ব - জন তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে সে বাড়ির বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যায় বিয়ের সাজে। যাবার সময় সে তার বিয়ের সাজ ওই যা কিনা ওর মা বাবা সংগ্রহ করেছিল বিভিন্ন ক্লাব, হরিসভা, ধনী আত্মীয় স্ব - জ ন দের কাছ থেকে ভিক্ষা করে। এমনকি গ্রাম পঞ্চায়েতের থেকেই কিছু অর্থ সাহায্য পেয়েছিল এই বেআইনি কন্যাদান সম্প্রদান এর জন্য। মেয়েটি সেই বেনারসি শাড়ি সহ বিয়ের কন্যার যাবতীয় সাজ খুলে ফেলে শার্ট প্যান্ট পরে নিজের বইয়ের ব্যাগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না। কিছুদূর যাবার পর একটা নির্মীয়মাণ বহুতলের সামনে ইট বালি সিমেন্ট পাথর ও লোহার রড পাহারা দেবার জন্য দু ' জন নৈশ প্রহরী আর তার বন্ধুরা রঙিন পানীয় সহকারে বাবুদের পুকুরের পাকা রুই মাছ ভাজার স্বাদ পরখ করছিল। তারা প্রথম মেয়েটিকে ছেলে ভেবে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু একজনের চোখের শকুন দৃষ্টিই বিপদ ডেকে আনার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। মেয়েটি আর কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে সামনে কিছুদূর দৌড়ে গিয়ে একটি নদীতে ঝাঁপ দেয়। নদী সাঁতরে পার হবার জন্য । কিন্তু পারে না। যদিও মেয়েটি একবার তাদের পাড়ার ক্লাবের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বড়ো ঝিলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল। এখন এই রাতের অন্ধকারে সারাদিন উপোস থাকার পর শকুনের  তাড়া খেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে হাপিয়ে উঠেছিল। কিছুদূর যাবার পর মেয়েটি কে ডুবে যেতে দেখে জেলেরা দূর থেকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিজ্ঞ ডাক্তার বাবুরা মেয়েটিকে মৃত বলে ঘোষণা করে ও পুলিশকে ফোন করে জানায় ।পুলিশের তদন্তকারী পুলিশ অফিসার মেয়েটির মৃত দেহ সনাক্ত করতে গিয়ে তার পিঠের ব্যাগ খুলে তার থেকে কিছু  কাগজ বের করে এনে  হতবাক হয়ে যান। ব্যাগের কাগজ পত্রের মধ্যে রাখা ছিল বিদ্যাসাগরের ছবি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণজীর ছবি আর যে মেয়েদুটি নিজেদের বিয়ে রুখে মিডিয়ার সৌজন্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে  রাষ্ট্রপতির নিকট হতে পুরস্কার নিয়েছিল সেই ছবি। যে দৃশ্য  অত্যাধুনিক মিডিয়ার দৌলতে আসমুদ্র ভারতবর্ষের মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সেই দৃশ্যের  সংবাদপত্রের পেপার কাটিং  যা সে অনেকদিন থেকে যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিল। সে সবই এখনো সুরক্ষিত আছে।
              .............................
   আশুতোষ দেবনাথ
     শহীদ বন্ধু নগর
কলকাতা - 700131
,মোবাইল 8902701389

No comments:

Post a Comment

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি"--বহ্নি শিখা

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি" বহ্নি শিখা  খুব মানসিক চাপের ভিতর দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম।ভালো লাগছিলো না মোটেই। আজকাল  মাঝেই মাঝে...