মাধবীলতা
শিখা মালিক
মাধবী অনেকক্ষণ ভাবলেশ হীন হয়ে বসে আছে,খবর টা শুভ্রই তাকে দিয়েছে- সকালে মাধবীর ফোন টা বেজে উঠলো সে তখন ওয়াশরুমে,শুভ্র সচরাচর ওর ফোন ধরে না অতীন ফোন করছে অতীনের সাথে শুভ্রর আলাপ মাধবী ই করিয়ে দিয়েছে ।মাধবীর দেরি হচ্ছে আর এদিকে ফোন বার বার বাজছে বাধ্য হয়ে শুভ্র ফোন ধরলো হাই বলতেই ওদিক থেকে কান্না ভেজা গলায় অতীন বললে -"শুভ্র আঙ্কেল মাকে বলে দেবেন বাবা নেই" চমকে যায় শুভ্র 'কি বলছো কি হয়েছে ???'অতীন বলে - 'আজ সকালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছেন ,' ফোনটা কেটে গেল মাধবী যখন অবিনাশের ঘর ছেড়ে আসে তখন ছেলে রামকৃষ্ণমিশনে ক্লাস নাইনে পড়ে ।ছেলের সাথে যোগাযোগ রাখতো মাধবী,
নিত্য দিনের অবজ্ঞা সর্ব সম্মুখে অপমান শিক্ষিত অবিনাশের স্বভাব,যা দিনে দিনে অসহ্য হয়ে উঠেছিল মাধবীর কাছে ছেলের কাছে লুকালেও ছেলে বুঝতো তার মা মানসিক অবসাদে ভুগছে। এক মন খারাপের বিকেল গঙ্গার ধারে বসেছিল মাধবী কতক্ষণ কেঁদেছে মনে নেই মাটির দিকে মগ্ন হয়ে তাকিয়েছিল হঠাৎ খেয়াল হয় পাশে কেউ দাঁড়িয়ে মুখের দিকে তাকাতেই পঞ্চাশ ঊর্দ্ধ শুভ্র বলে ম্যাম আপনি মানসিক বিপর্যস্ত সন্ধ্যা হয়ে আসছে এবার উঠুন আমি আপনাকে এগিয়ে দেব,সেদিন আলাপ তারপর থেকে প্রায়ই দেখা হোত কখন যে আপনি থেকে সম্বোধন টা তুমি তে এসে গেছে ওরা নিজেরাই জানেনা।
সেদিন শুভ্র বললে মাধবী একটা কথা বলবো?মাধবী জলের দিকে তাকিয়েই বললো - বলো
শুভ্র বললে আজ থাক অন্য কোন দিন বলবো।
অবিনাশ অনেক পরিপাটি থাকতে পচ্ছন্দ করে অনেকটা বদ মেজাজী ,ভালোবাসে মাধবীর শরীর টা ।মাধবী পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই আর অবিনাশ ষাট ছোঁবে আর ক মাস পর, ভীষণ ব্যস্ত সে রবিবার কিছু অতিথি নিমন্ত্রিত ছিল ওদের ফ্ল্যাটে, সকাল থেকে না খাওয়া মাধবী সব সামলাচ্ছিল একা হাতে দুপুর গড়িয়ে যায় মাথা ধরে আসছে তার ,অবিনাশ হঠাৎ অতিথিদের সামনে তাকে অপমান করে কারণটা কিছুই না অবিনাশের ফোন বেডরুমে বাজছিল মাধবী সেটা নিয়ে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল অন্য রুমে থাকা অবিনাশের কাছে মাথাটা ঘুরে গেল কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়েছে কিন্তু ফোন টা হাত থেকে পড়ে গেছে ।
অতিথিরা চলে গেছে অভুক্ত মাধবী বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে ,
হাঁটছিল অন্যমনস্ক হয়ে গাড়ির হর্ন খেয়াল করেনি ড্রাইভারের সতর্কতায় জোরে ধাক্কা লাগেনি ,একটা জটলা দেখে শুভ্র এগিয়ে গিয়ে দেখে মাধবী।
হাত পা একটু ছড়ে গেছে ,শুভ্র সেদিন আর ওকে বাড়ি ফিরতে দেয়নি বন্ধুত্বের অধিকার খাটিয়ে নিজের বাড়িতে আনে ।
একা থাকা মানুষের ফ্ল্যাট আবার গোছানো থাকে- মাধবীর ছেলেকে ফোন করে শুভ্র খবর দেয় ।
অবিনাশ একাই থাকে মাধবীকে আনতে যায়নি ছেলের নিষেধ ছিল । আজ অবিনাশের খবর শোনার পর থেকে সে কথা বলেনি একটুও ।নীরব মাধবী প্রশ্ন করে নিজের মনকে কোথাও কি অবিনাশের জন্য ভালোবাসা ছিল?
শুভ্র হাত বাড়ায় বলে 'ওঠো মাধবী গঙ্গায় নোয়াটা দিয়ে আসবে।' ভাবলেশহীন মাধবী হাত টা বাড়িয়ে শুভ্রর হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায় ।
No comments:
Post a Comment