জ্বালা
প্রেরণা বড়াল
অনিমা তিন বোনের মধ্যে মেজ। বাবা দ্বিতীয় বার বিয়ে করে নূতন মায়ের সাথে আলাদা করে ঘর বাঁধায় ওদের সংসার খুব কষ্ট করেই চলত।মায়ের কাজের উপর খাওয়া না খাওয়া নির্ভর করত। কোন কোন দিন খিদের জ্বালা নিয়েই কেটে যেত। শৈশব খুব কষ্টের হলেও বর্তমানে ওরা একটু সুখের স্পর্শ পেয়েছে। এখন ওরা সবাই কাজ করে।বড় বোনের বিয়ে দিয়েছে। ওদেরই মত খেটে খাওয়া ঘর তবে ঘরে শান্তি আছে।না খেয়ে থাকতে হয়না। আজকাল ওর মনও সোনালি স্বপ্ন দেখে।মেঘে ভর করে হাওয়ার সাথে উড়ে বেড়ায় নানান দেশে।
সবাই বলে তিন বোনের মধ্যে নাকি ও খুব সুন্দর। হয়ত সেই জন্যই মাকে বেগ পেতে হয়নি ওর বিয়ের জন্য। ওর বর সেলাইয়ের কাজ করে।ঘরে শ্বশুর শাশুড়ি দাদাশ্বশুর দাদিশাশুড়ি মিলে ওরা ছয় জন। ভালই কেটে যাচ্ছিল দিন।এক এক করে ওর কোলে দুই ছেলে এল সুজন আর সৃজন।কিন্ত কার যে নজর সংসারে লাগল ওর শ্বশুর বিছানা নিল। কিছুদিনের মধ্যেই ওর দাদিশাশুড়িও বিছানা নিল একেতো সংসারের বৃদ্ধি উপরে চিকিৎসার খরচ একার কামাইতে আর সংসার চলছিল না।অগত্যা অনিমাকে ঘর থেকে বেরোতে হল কাজ করার জন্য। পেয়েও গেল এক মাস্টার মশাইয়ের ঘরে রান্নার কাজ। তিনি একাই থাকেন। তাই কাজের চাপ কম টাকাও ভাল। কিন্ত ভাল আর ভাল রইল না।ওখান থেকেই একদিন ও ধর্ষিতা হয়ে বাড়ী ফিরে।
স্বামীকে বলে ওদের সমাজকে বলে কি করে ওর মুখের ভিতর গামছা ভরে দিয়ে হাত বেঁধে রেখে অনাচার করেছে।ও বিচার চায়।কিন্ত হায় গরিবদের বুঝি ন্যায় পেতে নেই। সত্যিটা সবাই মন থেকে মানলে ও বিচারে দোষ উল্টে ওর উপর পড়ল।প্রমাণ কি,সাক্ষ্য কই! টাকার লোভে ও নাকি মিথ্যাচার করছে।
ঘরের কাজে আর মন লাগে না অনিমার। বুড়ো বুড়ি বাচ্চাদের দেখাশোনা রান্নাবান্না কিছুই ঠিক মত করতে পারছেনা ও।অসহনীয়,ওর নিজেকে যে অপবিত্র মনে হয়।ওর কোন মান সম্মান নেই? ঘেন্না করে ও নিজের শরীরকে। বাঁচার ইচ্ছা নাই ওর। হঠাৎ মাথায় এল।এই সুযোগ। বাচ্চারা বাইরে খেলছে।স্বামী ও বাইরেই কোথাও গিয়েছে ওর রুমটা একদম খালি।ঝটপট দরজাটা বন্ধ করে মনের আগুন শান্ত করতে,শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে মাচিস ঠুকে দিল। নিমেষেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। অনিমা হাসে শরীরের জ্বালাটা বাড়তেই মনের জ্বালা কমছে। কিন্ত কতক্ষণ। অসহ্য যন্ত্রণা।কয়েক সেকেন্ডেই হার মানে ও। বাঁচার তীব্র ইচ্ছা হয়। ও না থাকলে ছেলেদের কি হবে।বুড়ো বুড়ি ওর স্বামীকে কে দেখবে।ওনারা তো ওকে খুব ভালবাসে।প্রাণপণ শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বাঁচাও বাঁচাও। কিন্ত একটা গোঁগান আওয়াজ ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। আপ্রাণ চেষ্টা করে দরজাটা খোলার। কিন্ত কোন লাভ হয় না। দু এক পা বাড়াতে না বাড়াতেই পড়ে যায় মাটিতে। ততক্ষণে আশেপাশের রাখা জামাকাপড় বিছানাপত্রে আগুন লেগে আরো ভয়াবহ রূপ ধারন করে আর ধীরে ধীরে অনিমার ভিতর বাইরের জ্বালা চিরতরে শান্ত করে দেয়। ভীষণ ভাবে জ্বলে ওঠে বাইরের
আগুন।
সমাপ্ত
*পরিচিতি : প্রেরণা বড়াল
একটু লিখি একটু ভাবি
নামটি প্রেরণা।
একটু বাজাই একটু গাই
এই টুকু থাক জানা
গৃহ বধূর খাতায় আছে
নামটি লেখা ভাই
এদিক ওদিক অত কথা
জেনে আর কাজ নাই।
প্রেরণা নাম প্রেরণা দেয়
তাইতে আমার প্রিয়
চলার পথে একটু সহায়
তোমরা সবাই হইয়ো।
জন্ম জাত নাম ঠিকানা
কিসের প্রয়োজন
গুণে জানুন কর্মে জান
তাই এ আয়োজন
চাই না আমায় নামে জানুক
জানুন আমার কাজে
তাহাই হবে শ্রেষ্ঠ জানা
এই পৃথিবীর মাঝে।
লোটাস লিলি একই সাথে
জলে করে বাস।
লোটাস পেল মায়ের চরণ
লিলি পেল আশ।
তাইত লিলি প্রেরণাকে
অতি যত্ন করে
রাখে নিজের কলমেতে
অনেক আপন করে
চাই গো সবাই সুখে থাকি
এই পৃথিবীর বুকে
হিংসা ভুলে ভালবাসুক
মানুষে মানুষকে।
No comments:
Post a Comment