অশরীরী--অনিমা মুখার্জি
আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগের কথা । ঘটনাটি ঘটে পলাশপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যাlলয়ে । দিনটি ছিল সরস্বতী পূজার । স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সব পুজোর কাজে ব্যস্ত--কেউ আলপনা দিতে, কেউ বা মন্ডপ সাজাতে।
স্কুলটি একতলা । পাঁচটা ঘর, প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি অব্দি মোট একশ তিরিশ জন পড়ুয়া । পুজো মিটলেই স্কুলটি দোতালা হবে তার জন্য কিছু ইঁট বালি সিমেন্ট এনে রাখা হয়েছিল স্কুলের পিছন দিকের ফাঁকা জায়গায় ।
পঞ্চম শ্রেণীর কিছু ছাত্র স্কুলের ছাদে উঠে ছিল ঘুড়ি উড়াবে বলে । হঠাৎই একটা হট্টগোল শোনা গেল । দৌড়ে নিচে সবাই গিয়ে দেখল, একটি ছাত্র ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেছে আর ওই ইঁটের ওপর পড়ে মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে । ছেলেটিকে অচৈতন্য অবস্থায় তুলে নিয়ে দৌড়ালো সদর হাসপাতালে কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে । পূজোর ওই সুন্দর পরিবেশ নিমেষেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল ।
কিছুদিন পর স্কুলে এক নতুন শিক্ষক নিযুক্ত হন--নির্মল বাবু । তিনি আবার ভূতে বিশ্বাস করেন না । অনেকেই বলে পাশের কার্নিশের যে প্রান্ত থেকে ছেলেটি পড়ে গিয়েছিল সেখানে নাকি একটি ছোট ছেলেকে প্রায়ই কার্নিশ ধরে ছুটে বেড়াতে দেখা যায়, তবে একথা নির্মল বাবু বিশ্বাস করেন না।
একদিন স্কুল ছুটির পর তিনি নিজের কিছু কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যে নেমে এল । মাটির পথ ধরে তিনি যখন যাচ্ছেন তাঁর সামনে যেন একটি ছোট ছেলে হেঁটে চলেছে । নির্মল বাবু যতই পা চালিয়ে ছেলেটিকে ধরবার জন্য এগোচ্ছেন ছেলেটি ততোই যেন আরো এগিয়ে যাচ্ছে । নির্মল বাবু তো হতবাক এত বাচ্চা ছেলে এত তাড়াতাড়ি কি করে হাঁটতে পারে ? তারপর তিনি যখন স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তখন তিনি দেখলেন ওই ছেলেটির স্কুল বাড়িতে ঢুকে গেল । নির্মল বাবুও ছেলেটির পেছনে পেছনে গেলেন তারপর তিনি যা দেখলেন তা তো বলা বাহুল্য--ছেলেটি ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে ছুটে বেড়াচ্ছে । তখন নির্মল বাবু আর নিজের মধ্যে নেই, এতদিন ভূত সম্পর্কে যা ভেবেছেন তার পুরোটাই মিথ্যে একথা মানতে তিনি বাধ্য হলেন। পড়িমড়ি করে ছাদ থেকে নেমে এসে তিনি দেখলেন, সেই ছেলেটি তারই সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে । অবিশ্বাসের আর কোনো অবকাশই রইল না।
সমাপ্ত
No comments:
Post a Comment