Friday, 4 February 2022

ভিখারি-- রতন চন্দ রত্নেশ

ভিখারি 
রতন চন্দ রত্নেশ 

"আরে পুত্রবধূ, শুনছো... দরজায় ভিক্ষুক অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। তোমার যদি কিছু খাওয়ার অবশিষ্ট থাকে, তাহলে গরিবকে দিয়ে দাও।" বললেন হলঘরে বসা শাশুড়ি।
"মা, কিছু নেই। ওকে এগিয়ে যেতে বলো।" ঘরের ভিতর থেকে পুত্রবধূর গলা ভেসে এলো।
শাশুড়ি অবাক হলেন। তিনি নিজেই রাতের অবশিষ্ট খাবার সবার সামনে ফ্রিজে রেখেছিলেন।
"বৌমা, রাতের জন্য যে খাবার রেখেছিল তার কিছু দাও।"
একথা শুনে রেগে উঠলো বৌমা।
“তুমিও যা তা বল মা। যা ফ্রিজে রয়েছে  আমরা কি এই ভিখারিদের জন্য রাখি? যদি তাদের দিতেই হতো, তাহলে এত দামি ফ্রিজ কিনব কেন?
শাশুড়ি চুপ করে থাকলেন, কিন্তু ভিক্ষুকের করুণ অবস্থা দেখে তাকে খালি হাতে পাঠাতে রাজি হচ্ছেন না।
ইতস্তত করে শাশুড়ি পুত্রবধূর দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বললেন,  যদি খাবার না দাও তবে রমেশের পুরোনো জামা-কাপড়ই দাও। দেখ বেচারা কত ছেঁড়া জামা পরে আছে।
পুত্রবধূ ফুঁপিয়ে ওঠে, “মা, তুমি নম্র জগতের কিছুই জানো না। পাঁচ-দশ দিন থাকার পর সে গ্রামে ফিরবে। আপনি কি শহরে বাস করতে জানেন? ছেঁড়া কাপড়ের বদলে দু-একটি স্টিলের বাসন পাওয়া যায়। তুমি বুঝছ."
এতক্ষণ যে ভিখারিও তার কথা শুনছিল সেও বুঝতে পেরেছিল। সে চুপচাপ এগিয়ে গেল।

No comments:

Post a Comment

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি"--বহ্নি শিখা

২রা ফেব্রুয়ারি এবং আমি" বহ্নি শিখা  খুব মানসিক চাপের ভিতর দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম।ভালো লাগছিলো না মোটেই। আজকাল  মাঝেই মাঝে...